ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুলাই ২০২৬ : রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দেশের ১৩টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই অভিযানের অংশ হিসেবে এদিন দুপুরে মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার পার-রঘুনাথপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা মীর রাকিব আলির বাড়িতে পৌঁছয় ইডি-র একটি দল। বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজ়ম স্কোয়াড (এটিএস)-এর দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, একটি সুসংগঠিত চক্র রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশে সাহায্য করত এবং তাঁদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করত। ইডি-র প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অনুদান দেশে আসত। ইডি আধিকারিকদের দাবি, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তথাকথিত ‘মিডল অ্যাকাউন্ট’-এর সাহায্যে সেই অর্থ বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। সন্দেহভাজনদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে নগদ অর্থ তোলা এবং ছোট ছোট অঙ্কে একাধিক লেনদেনের কৌশলও ব্যবহার করা হতো।
মীর রাকিব আলির জামাই আদিল উল রহমানের বিরুদ্ধে এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আদিল উত্তরপ্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনা করতেন এবং পরে কর্মসূত্রে আরবে যান। লখনউ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সম্প্রতি ডোমকলে ফিরে আসেন। তবে গত সাত-আট দিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ইডি আধিকারিকরা আদিলের খোঁজেই তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে অনুমান। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।








