পাকিস্তানে ৩০ লস্কর জঙ্গি নিধন, শীর্ষ নেতার দাবি: ‘ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত’

পাকিস্তানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে ৩০ লস্কর জঙ্গি নিহত। শীর্ষ লস্কর নেতা রিজওয়ান হানিফের দাবি, এর পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ আগস্ট ২০২৬ঃ পাকিস্তানে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অন্তত ৩০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন খোদ লস্করের শীর্ষ নেতা রিজওয়ান হানিফ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত তিন থেকে চার বছরে তাদের বহু সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও সীমান্ত লাগোয়া করাচি, পেশোয়ার, রাওয়ালপিণ্ডি, মুজাফফরাবাদ সহ বিভিন্ন শহরে খুন হয়েছেন। এই ঘটনা পাকিস্তানে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

হানিফ তার ভিডিওতে অভিযোগ করেছেন যে, বেছে বেছে লস্কর ক্যাডারদেরই নিশানা করা হচ্ছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাত থাকার দাবি করেছেন, যদিও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হানিফ তার বার্তায় ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসাত্মক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং হিন্দুধর্ম সম্পর্কেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই হানিফের ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, রিজওয়ান হানিফ ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের তালিকায় অন্যতম, যাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে চলেছে নিরাপত্তা সংস্থা। ২০০৫ সালে আল কায়েদা ও তালিবানের সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে জাতিসংঘ লস্কর-ই-তৈবাকে বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এতদিন পর্যন্ত এই সংগঠনের কোনো জঙ্গি প্রকাশ্যে এসে অকপটে তাদের সদস্যদের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি। এই প্রথমবার এভাবে ভিতরের খবর সামনে এল, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ‘ধুরন্ধর আতঙ্ক’-এর জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।