ব্যুরো নিউজ, ৪ আগস্ট ২০২৬ঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রকাশিত একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে আচমকা সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় মেটা দুঃখপ্রকাশ করলেও, কেন্দ্র জানিয়েছে শুধু ক্ষমা যথেষ্ট নয়। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির চেয়ারম্যান নিশীকান্ত দুবে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণ জবাবদিহি করতে হবে এবং প্রয়োজনে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও বিবেচনা করা উচিত। বৈঠকে গুগল, মেটা এবং ইউটিউবের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা হলেও, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে গুরুত্ব পায়।
একাধিক সাংসদ মেটার প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, কোন প্রক্রিয়ায় ভিডিওটি সরানো হয়েছিল এবং এই সিদ্ধান্তের জন্য শেষ পর্যন্ত দায়ী কে। শাসকদলের সদস্যরা জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায় নির্ধারণ জরুরি। নিশীকান্ত দুবে আরও বলেন, প্রয়োজনে মেটার শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি সংস্থার প্রধান মার্ক জুকারবার্গেরও এই বিষয়ে জবাবদিহি করা উচিত। এই বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি হঠাৎ ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পরই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মতে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার নিশ্চয়তা কী এবং কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে কী নীতি অনুসরণ করা হয়, এসব বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জবাবদিহি, কনটেন্ট পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।








