ব্যুরো নিউজ, ৬ আগস্ট ২০২৬ঃ রাজ্যের দীর্ঘদিনের শিল্প অচলাবস্থা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বস্ত্রশিল্পকে অন্যতম ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্রশিল্প প্রদর্শনী ও সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি এই ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত তিন মাসেই রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবেশ বদলে গিয়েছে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি থেকে রাজ্যকে মুক্ত করা হয়েছে।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘সুরাত-বিদ্বেষ’ ও অদূরদর্শী শিল্পনীতির কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বর্তমান বিজেপি পরিচালিত সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর গতিতে বাংলার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রস্তুত। তিনি কলকাতার ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিগত ৫০ বছরের ধ্বংসাবস্থা থেকে বাংলাকে বের করে আনার জন্য তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার শিল্পায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগস্টের মধ্যে নির্মলা সীতারামন রাজ্যে আসছেন এবং বাংলার বস্ত্রশিল্পপতিদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে। শিল্পায়নের গতি বাড়াতে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে একাধিক বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের আর স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের চক্কর কাটতে হবে না; রাজ্য সরকারের বিশেষ ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমেই যাবতীয় ছাড়পত্র মিলবে। জমি ক্রয় নীতি চালু হয়েছে এবং শীঘ্রই নতুন ‘ভূমি উন্নয়ন নীতি’ আনা হচ্ছে। বিধানসভায় আইন সংশোধন করে বস্ত্রশিল্পের জন্য নীতি সহজতর করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ইতিমধ্যেই লাক্স কোজি, আমুল, শ্যাম স্টিল-এর মতো বৃহৎ সংস্থার বিনিয়োগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতিকে নতুন জমি হস্তান্তর করা হবে।








