ব্যুরো নিউজ, ৮ আগষ্ট ২০২৬: দক্ষিণ কলকাতার সরশুনায় তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে কাঠগড়ায় ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির মন্ডল ৪-এর সভাপতি বিট্টু সরকার। কাস্টরডাঙ্গা রোডের একটি বাইক সারাইয়ের দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দোকানদার সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত মঙ্গলবার রাত্রিবেলা বিট্টু সরকার দলবল নিয়ে এসে দোকানে চড়াও হন। অভিযোগ, প্রকাশ্যেই দোকানদারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেই সময় বাইক সারাতে আসা এক ব্যক্তি এই ঘটনায় বাধা দিতে গেলে তাঁকেও নিগ্রহ করা হয়। এরপর দোকানটি জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সরশুনা থানায় বিট্টু সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিজেপির এক সাধারণ কর্মী জানান,“ঝামেলা চলাকালীন আমি কোনওরকম ঝামেলায় না জড়িয়ে নিরাপদে দাঁড়িয়ে ফোনে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলাম। সেই সময় হঠাৎই কয়েকজন আমার উপর আক্রমণ করে। আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং আমাকে মারধর করা হয়। মারধরের জেরে আমার নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে।
আমার অভিযোগ, মণ্ডল সভাপতি বাইরে থেকে তৃণমূলের লোকজন ও দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে আমাদের উপর এই অত্যাচার চালিয়েছেন। আমি শুধু ঘটনার ভিডিও করছিলাম, তারপরেও কেন আমার উপর এভাবে হামলা করা হল, তার বিচার চাই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে এই ঘটনার পর উল্টো চিত্রও সামনে এসেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। যে বিট্টু সরকারের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে, তাঁকেও নাকি অপর এক বিজেপি গোষ্ঠী মারধর করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি বেহালার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। বিট্টু সরকারের স্ত্রী সরশুনা থানায় এই মারধরের ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছেন।বিট্টু সরকারের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাত্রিবেলা আমার স্বামী বিষ্ণু সরকার এবং আমার ভাসুর বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটক করে মারধর করে। লোহার রড দিয়ে আমার ভাসুরের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন হেমারেজ হয়েছে। অন্যদিকে, হামলায় আমার স্বামীর পা ভেঙে যায়।
আমার স্বামী গত আট বছর ধরে মণ্ডল প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি কোনওরকম তোলাবাজি বা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। আমার অভিযোগ, বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীর উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমার স্বামী ও ভাসুরের উপর যে অন্যায় হয়েছে, তার যথাযথ বিহিত চাই।”
একই নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও পাল্টা মারধরের অভিযোগ ঘিরে সরশুনা এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ উভয় অভিযোগেরই তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনায় শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউউতোর শুরু হয়েছে।








