ব্যুরো নিউজ, ১৪ আগস্ট ২০২৬: বাসেনার অগ্নিবীর প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবিতে নেপালের তরুণরা এবার রাজপথে নেমেছেন। পোখারায় আয়োজিত এই বিক্ষোভে গোর্খা সৈনিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছেন। এই অপ্রত্যাশিত আন্দোলন প্রতিবেশী দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে প্রবল রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সেনায় গোর্খা রেজিমেন্টের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও, ২০২০ সালের পর থেকে এই রেজিমেন্টে নতুন নিয়োগ স্থগিত রয়েছে, যা নেপালের তরুণদের মধ্যে একপ্রকার হতাশা তৈরি করেছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত গোর্খাদের সেনায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে গোর্খা রেজিমেন্ট বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে গোর্খা সৈন্যরা ভারতীয় এবং ব্রিটিশ উভয় সেনাবাহিনীতেই সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৭টি গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৯টি ব্যাটেলিয়নে প্রায় ৩২ হাজার নেপালি সেনা কর্মরত রয়েছেন, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক সামরিক বন্ধনের প্রতীক। নেপালে কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ভারতীয় সেনায় যোগ দিয়ে সুরক্ষিত জীবিকা নির্বাহ করতে আগ্রহী। এই কারণেই তারা অগ্নিবীর প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের দাবি নিয়ে পথে নেমেছেন। তবে বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার এই দাবি মানতে নারাজ।
তাদের যুক্তি, অগ্নিবীর প্রকল্প ১৯৪৬ সালের নেপাল, ভারত এবং ব্রিটেনের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মূল নীতির পরিপন্থী। কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন শাহ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিক্ততা বাড়িয়েছেন, যদিও নয়াদিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়ার পর তাঁকে অনেক সময় পিছু হটতেও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের এই আন্দোলন বালেন সরকারের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।







