হরমুজ প্রণালী বিতর্কে ওমানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে সাহায্য করায় ওমানকে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৭ আগস্ট ২০২৬: হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিকল্প পথ তৈরির জন্য ইরান ও ওমানের সমঝোতার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ওমানকে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন, যদি তারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধে নাক গলায়। সোমবার ট্রাম্প এই চরম হুঁশিয়ারি দেন।

কাকতালীয়ভাবে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সাময়িক সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনেই এই মন্তব্য সামনে এল। দুই দেশের মধ্যে এখনও কোনও স্থায়ী চুক্তি হয়নি এবং ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে চুক্তি করার ব্যাপারে তাঁর কোনও তাড়া নেই। বরং ওয়াশিংটন নৌ-অবরোধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমশ আরও বাড়াচ্ছে। এর আগে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি ‘রুট ম্যাপ’ তৈরিতে ওমানের সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজগুলি ইরানের উপকূলের কাছাকাছি জলসীমা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ওমানের কাছ দিয়ে বেরিয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এবারই প্রথম নয়। এর আগে মে মাসেও তিনি জানান, এই আন্তর্জাতিক জলপথ কোনও একটি দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং ওমান নিয়ম না মানলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখনই বলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার বন্ধু দেশ এবং ওয়াশিংটন-তেহরান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসা ওমান এখন চরম বিপাকে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ফোনালাপে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের উচিত অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করা বা ‘সাদা পতাকা’ তোলা। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানে এবং হরমুজ প্রণালী সচল রাখার চেষ্টার মাঝে দাঁড়িয়ে আরব দুনিয়ায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।