আইপ্যাক মামলায় তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবে ইডির আপত্তি, জট অব্যাহত

আইপ্যাক মামলায় তদন্তকারী সংস্থা বাছাই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবে আপত্তি জানাল ইডি। রাজ্যকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চাইল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ আগস্ট ২০২৬: আইপ্যাক (I-Pac Case) দফতরে ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত মামলায় তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, এই ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু ইডির তরফে সেই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসাবে কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে একাধিক নথি নিয়ে যান। যদিও ইডি পরে জানায়, তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি এবং তৃণমূল পৃথক ভাবে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। ইডির অভিযোগ ছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি চলাকালীন নথি নিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা মুলতুবি হওয়ার পর ইডি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, যাতে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী যুক্তি দেন, বর্তমানে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বর্তমান সরকারই তদন্তকারী সংস্থা বেছে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। বিচারপতি মিশ্র এই প্রস্তাবে সায় দিলেও ইডির আইনজীবী এসবি রাজু আপত্তি জানিয়ে বলেন, কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশ করবে, নাকি সিবিআই করবে, তা সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে ইডির দাবি।