ব্যুরো নিউজ, ১৮ আগস্ট ২০২৬: বারুইপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ হেফাজতে থাকার পর এবার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। এই মামলায় বারুইপুর মহকুমা আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার ভাঙড় থানার বাইরে চেয়ার-টেবিল পেতে বসিয়ে শওকতকে জেরা করলেন পুলিশ আধিকারিকরা।
একসময় যাঁর কথায় এলাকায় বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেই ‘দাপুটে’ নেতার এই করুণ পরিণতি দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য স্থানীয় বাসিন্দা। এই দৃশ্য এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল। অভিযোগ ওঠে, ওইদিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলমের বাড়ি ও দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় শওকতের অনুগামীরা। দোকানের মূল্যবান সামগ্রীও লুট করা হয়। এরপর ১৮ জুন বোদরা বাজারে থাকা ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালপত্র লুঠ করা হয় এবং গাড়ি দিয়ে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় গত ১২ জুলাই বোদরা থানায় শওকত-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার রাতে শওকতকে ভাঙড় থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় দীর্ঘ জেরাপর্ব। সাধারণত থানার ভিতরেই অভিযুক্তদের জেরা করা হয়, কিন্তু শওকত মোল্লাকে যেভাবে প্রকাশ্যে থানার বাইরে এনে চেয়ার-টেবিল পেতে জেরা করা হচ্ছে, তা দেখে অনেকেই বিস্মিত। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং শওকতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।







