ব্যুরো নিউজ, ১৮ আগস্ট ২০২৬: শান্তিচুক্তির ৬০ দিনের মেয়াদ ফুরোতেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে আমেরিকার নতুন ভূখণ্ড বলে দাবি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের চুক্তি শিকেয় ওঠার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ শেষ হতেই ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নামার ‘মুডে’ রয়েছেন ট্রাম্প, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ’-এ হরমুজের একটি মানচিত্র শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালী-সহ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ওমান এবং ইরানের কিছু অংশ গোল করে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর উপরে বড় বড় হরফে লেখা, ‘আমেরিকার নয়া ভূখণ্ড।’ ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবি সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পালটা বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের সমঝোতা অনুযায়ী ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি যতদিন না আমেরিকা বাস্তবায়িত করছে, ততদিন হরমুজ বন্ধ রাখা হবে। অর্থাৎ, আমেরিকা যতই দাবি করুক, আপাতত ইরানের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমন দাবি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে এবং আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। উভয় পক্ষের এই পালটাপালটি অবস্থানে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।








