সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপে এবার ভাসমান অ্যাম্বুলেন্স, মিলবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি-রক্ত পরীক্ষাও

সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর! জলে ভেসেই মিলবে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা। ফ্লোটিং অ্যাম্বুলেন্সে থাকছে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, রক্ত পরীক্ষাসহ জরুরি ব্যবস্থা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ আগস্ট ২০২৬: সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপগুলির বাসিন্দাদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এবার জলে ভেসেই মিলবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, রক্ত পরীক্ষাসহ সমস্ত জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা। চারদিকে জল দিয়ে পরিবেষ্টিত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এতদিন ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর নিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক ফ্লোটিং বা ভাসমান অ্যাম্বুলেন্স। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই ভাসমান চিকিৎসা ইউনিটের পরিদর্শন করেছেন এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে আশাপ্রকাশ করেছেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফেয়ারলি ঘাটে দুটি ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিট সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই এগুলি পুরোদমে কাজ শুরু করবে। শুধু তাই নয়, আরও ছ’টি ভাসমান মেডিক্যাল ইউনিট তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। প্রতিটি ফ্লোটিং ইউনিটে থাকবেন নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এছাড়াও থাকছে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, সমস্ত ধরনের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা, জরুরি ওষুধপত্র, এক্সরে মেশিন এবং প্লাস্টার করার সুবিধা। এর ফলে দুর্গম দ্বীপের রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা পাবেন। স্বাস্থ্য দফতর সুন্দরবনের চিকিৎসা পরিষেবাকে একটি সুসংহত নেটওয়ার্কে আনতে চাইছে। এর প্রথম ধাপে থাকছে স্পিডবোট অ্যাম্বুলেন্স। ইতিমধ্যেই ৬টি স্পিডবোট অ্যাম্বুলেন্সের বরাত দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এর ফলে জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে, যা এতদিন দুর্গমতার কারণে কঠিন ছিল। এই পরিষেবা চালু হলে সুন্দরবনের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও মজবুত হবে।