বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণা সংসদের কাজ, আদালতের নয়: সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বড় মন্তব্য

বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণার এক্তিয়ার সংসদের, আদালতের নয়, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র। বিবাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই মন্তব্য।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:  সুপ্রিম কোর্টে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ ঘোষণার এক্তিয়ার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বড় মন্তব্যে নতুন মোড় নিল এই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি সংসদের একচ্ছত্র অধিকার, আদালতের নয়। তাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ বিবাহ নামক পারিবারিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং সামাজিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।

বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতরের এমন ঘটনা অন্যান্য আইনের ধারায় সমাধান করা উচিত, এটিকে সাধারণ ধর্ষণের অপরাধের সমতুল্য করা ঠিক হবে না। শীর্ষ আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে জানান, কোনও বিবাহিত পুরুষের স্ত্রীর অনিচ্ছায় যৌন সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে অপরাধের আওতায় আনা হবে কি না, তা আইনসভার সিদ্ধান্তের বিষয়। এর আগে জমা দেওয়া হলফনামাতেও কেন্দ্রীয় সরকার বৈবাহিক ধর্ষণকে পৃথক ফৌজদারি অপরাধ করার বিপক্ষে মত দিয়েছিল। আইনি সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬৩ নম্বর ধারার এক্সসেপশন ২, যা আগের ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫ নম্বর ধারাকেই বহন করছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের উর্ধ্বে নিজস্ব স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত যৌন সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেন, বিয়ে মানেই কোনও নারীর ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের বিলুপ্তি হতে পারে না। আদালত ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তারা দুটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখবে—এই ব্যতিক্রমী ধারাটি বজায় রেখেও মামলা চালানো যায় কি না, এবং এই আইনি ছাড় সাংবিধানিকভাবে বৈধ কি না। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দিল্লি হাইকোর্ট এই বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত রায় দেওয়ার পরেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।