পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ ভুয়ো ডাক্তার! ১০ লক্ষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন, কাঠগড়ায় মেডিক্যাল কাউন্সিল

পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ ভুয়ো ডাক্তার! ১০ লক্ষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়ার অভিযোগ। মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের দাবি উঠেছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গজুড়ে অন্তত ৫০০ ভুয়ো ডাক্তার সক্রিয় রয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোমের দাবি, এই ভুয়ো চিকিৎসকদের অনেকের কাছেই রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর। অভিযোগ, এমবিবিএস বা এমডি পাশ তো দূরের কথা, এঁরা জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা নিট পরীক্ষাতেও বসেননি। ভিনরাজ্য থেকে ভুয়ো ডিগ্রি জোগাড় করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতির নেপথ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরাও জড়িত থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে চিঠি পাঠিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। এই অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ডা. পাণ্ডে আরও জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবিলম্বে মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডা. সুদীপ্ত রায় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. সুশান্ত রায়কে তাঁদের পদ থেকে সরানো প্রয়োজন।

তাঁদের পদে থাকা অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয় বলেই অ্যাসোসিয়েশনের মত। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই দুই ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজ মিলেছে – ডা. জুলফিকার মণ্ডল (মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০২১) এবং ডা. শেখ সাইদুর হক। এই ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।