বিজেপিকে রুখতে নিচুতলায় বাম-তৃণমূলের ‘অলিখিত বোঝাপড়া’, পুরভোটে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত

বিজেপিকে রুখতে নিচুতলায় বাম-তৃণমূলের 'অলিখিত জোট'। পুরভোট ও উপনির্বাচনে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত। বাংলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাঁক। বিজেপিকে রুখতে এবার নিচুতলায় বাম ও তৃণমূলের মধ্যে এক ‘অলিখিত বোঝাপড়া’র ইঙ্গিত মিলছে। উপরমহলের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও ভোটবাক্সে এই দুই দলের মধ্যে জোটের সম্ভাবনা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, যার প্রথম ঝলক দেখা গেছে ফলতায়। আসন্ন উপনির্বাচন ও পুরভোটে এই নয়া সমীকরণ আরও প্রকট হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বাম নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, এবং রাজনৈতিক অত্যাচারের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

পার্টি অফিস দখল বা আগুন লাগানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বামেদের তরফে অভিযোগ করা হত, নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে তৃণমূল লালকে ছেড়ে গেরুয়াকে নিশানা বানাতো, যার ফলে রাজ্যে বিজেপি জমি তৈরি করে নেয়। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিজেপির শক্তি আরও প্রশস্ত হয়।

তবে, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটে বাম ও তৃণমূল এক মঞ্চে থাকলেও, বাংলার মাটিতে তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল প্রবহমান। কিন্তু বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং তৃণমূলের কাছে তাদের পরাজয়ের পর সেই পুরনো মেরুকরণে ফাটল ধরছে। এখন বিজেপিকেই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখছে উভয় দল, যার ফলস্বরূপ নিচুতলায় তৈরি হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া। আদর্শগত দূরত্ব থাকলেও, আপাতত গেরুয়া শিবিরকে ঠেকাতে এই ‘অলিখিত জোট’ই হয়ে উঠছে নতুন রণনীতি।