ব্যুরো নিউজ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর একে অপরের বিরুদ্ধে ‘কথার খেলাপ’-এর অভিযোগ তুলল দুই দল। সোমবার এই খবর সামনে আসতেই তৃণমূল শিবির কংগ্রেসের দিকেই দায় চাপিয়েছে। তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস নিজেরাই তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তাঁর কথায়, “দিল্লিতে কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে চলতে চায়। তারাই সেটা বলেছে। অথচ এখানে অন্য পথে চলতে চাইছে। এটা হয় না।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেসের এই দ্বিমুখী নীতি রাজ্য রাজনীতিতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তা কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তিনি রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীর জন্য কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড তৃণমূলের এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। এর পরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’-এর অভিযোগ আনা হয়, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পাল্টা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “সেই ২০১১ থেকে কংগ্রেস প্রতিনিয়ত তৃণমূলের জন্য ‘স্যাক্রিফাইস‘ করে এসেছে।” শুভঙ্কর সরকারের মতে, আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূল যদি দুই আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে, তবেই জোটের প্রেক্ষাপটে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। সামনে আরও অনেক ভোট-লড়াই রয়েছে, যেখানে এই বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোট সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছে এবং দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।








