ব্যুরো নিউজ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শীর্ষ আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হল, ধর্মীয় কারণে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি না গাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যাবে না। সম্প্রতি মোদি সরকার জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাশ করিয়েছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে।
এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’-এর পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এর জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই বিলের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মূল আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে, যা জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় রাখে। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ গাওয়া হবে নাকি আংশিক, তা নিয়ে আদালতের কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু কোনও ব্যক্তির ধর্মাচরণের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়টি শীর্ষ আদালত খতিয়ে দেখবে। বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের আইন নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান করে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নতুন আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই রায়ের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আরও একবার প্রমাণ করল। এই রায় দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এটি একটি যুগান্তকারী রায়, যা ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত বিষয়ে পথ দেখাবে।








