শীত কি এবার আগেভাগেই? এল-নিনোর প্রভাব নাকি অন্য কারণ? আইএমডি-র বড় পূর্বাভাস জানুন

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। শীত কি এবার আগে আসছে? এল-নিনোর প্রভাব নিয়ে আইএমডি-র পূর্বাভাস ও বিশেষজ্ঞদের মতামত জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই রাতের বেলা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে দিল্লিতে। বায়ুমণ্ডলে উচ্চ আর্দ্রতা এবং অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে আবহাওয়ার এই বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিল্লির তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন।

এই হঠাৎ তাপমাত্রা হ্রাস প্রশ্ন তুলেছে, তবে কি এবার শীতকাল আগে চলে আসছে এবং এর পেছনে এল নিনোর ভূমিকা আছে? তবে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তাপমাত্রা হ্রাসকে এল নিনোর প্রভাব হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শীতলতার প্রধান কারণ হলো সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং ক্রমাগত বৃষ্টিপাত।

এল নিনো একটি বৃহৎ পরিসরের জলবায়ুগত ঘটনা, যা মধ্য ও পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ রাখে এবং ভারতের সার্বিক আবহাওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু দিল্লির সেপ্টেম্বরের এই তাপমাত্রা হ্রাস এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত সময়ের আগেই শীত আসার কোনো নিশ্চিত খবর নেই। বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থাটি দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ু আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে ১লা অক্টোবর পর্যন্ত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ অংশে রোদ ও গরম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় দিনের তাপমাত্রা আবার বাড়বে।

মায়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া আরেকটি নিম্নচাপ আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা কিছু অঞ্চলে পুনরায় বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। তবে এটি একটি সাময়িক শীতল আবহাওয়া তৈরি করবে, সময়ের আগে শীতের আগমন নয়।