মণিপুরের তাণ্ডবে ৯ জনের মৃত্যু, পাহাড়ী জেলাগুলিতে হিংসা চরমে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন

মণিপুরে ১২ ঘণ্টার হিংসায় ৯ জনের মৃত্যু, নাগা-কুকি সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাহাড়ি জেলা। ঘরবাড়ি পুড়ল, গুলি বিনিময়। মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ অক্টোবর ২০২৬:  মণিপুরে হিংসার আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে অশান্তির ঘটনায় সে রাজ্যে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শান্তি ফেরাতে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়াম্নাম খেমচান্দ সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছেন।

সূত্রের খবর, রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মণিপুর সরকারকে সবরকমভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই আশ্বাস এমন এক সময়ে এল, যখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিংও রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে মণিপুরের কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে একটি প্রতিবাদ চলাকালীন এক কুকি মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের সময়ই এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এরপরই মণিপুরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকাল থেকেই কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের অজ্ঞাতপরিচয় গোষ্ঠীগুলি একে অপরের এলাকায় ঘরবাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। একাধিক স্থানে গুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কামজং, কাংপোকপি ও উখরুল এই তিন জেলায় তাণ্ডব শুরু হয়।

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া নাগা-কুকি সংঘর্ষের ঘটনায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল। নিহত ৯ জনের মধ্যে ৬ জন নাগা, ২ জন কুকি এবং ১ জন গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন। কাংপোকপি জেলায় একটি নাগা গ্রামে হামলায় চারজন গ্রাম প্রতিরক্ষা কর্মী নিহত হন, যার মধ্যে একজনকে শিরশ্ছেদ করা হয়। উখরুল জেলায় এক গোর্খা কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। হিংসা ছড়িয়ে পড়া রুখতে জেলা কর্তৃপক্ষ চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬২ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস রাজ্যের মানুষের মনে কিছুটা হলেও ভরসা জুগিয়েছে, যারা দীর্ঘকাল ধরে অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।