ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাটের ব্যবত্তাবাটি বাড়ির দুর্গাপূজা। এক মায়ের অপমানের প্রতিশোধ এবং তাঁর চোখের জল মোছানোর সংকল্প থেকেই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি। প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বছর আগেকার কথা, দরিদ্রতার কারণে পাশের গ্রামের এক দুর্গাপূজায় অঞ্জলি দিতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরেছিলেন এক মহিলা। মায়ের এই অপমান সহ্য করতে পারেননি তাঁর ছেলে। মায়ের সম্মান রক্ষার্থে এবং মা দুর্গার আরাধনায় ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ দূর করতে তিনি নিজেই দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।
এই পুজোর প্রথম প্রচলন করেছিলেন পরিবারের পূর্বপুরুষ স্বার্থকরাম। তিনি ছিলেন তাম্রলিপ্ত অধুনা তমলুকের রাজা তাম্রধ্বজের রাজপরিবারের ব্যবস্থাপক। তাঁর নাম থেকেই এই এলাকার নাম হয় ব্যবত্তারহাট। আজও নিয়মনিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সাথে এই বনেদি বাড়ির পুজো চলে আসছে। পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও, পুজোর ক’টা দিন সকলে একত্রিত হন। এখন থেকেই পরিবারের মহিলারা পুজোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছেন। আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে নিয়ে উৎসবের মেজাজে মেতে ওঠে গোটা এলাকা। এই বাড়ির মায়ের ভোগে বিভিন্ন ধরনের বড়ি দেওয়ার রীতি প্রচলিত। নবীন ও প্রবীণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজও এই পুজো তার জৌলুস হারায়নি। পুজোর দিনগুলিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষ ভোগ গ্রহণ করেন, যা এই পুজোর সামাজিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই প্রাচীন পুজো শুধু একটি বাড়ির উৎসব নয়, এটি এলাকার মানুষের প্রাণের উৎসব।








