২৮৫ বছরে জগৎবল্লভপুরের নন্দী বাড়ির পুজো, উস্কে দেয় শৈশবের নস্টালজিয়া

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের নন্দী বাড়ির দুর্গাপুজো এবার ২৮৫ বছরে। সনৎ সিংহের কালজয়ী গান, স্কুলের স্মৃতি, বৈষ্ণব মতে পুজো ও বিশেষ প্রতিমা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৪ অক্টোবর ২০২৬: হাওড়া গ্রামীণের অন্যতম প্রাচীন দুর্গাপুজো, জগৎবল্লভপুরের নবাসন গ্রামের নন্দীবাড়ির পুজো এবার ২৮৫ বছরে পদার্পণ করল।

এই পারিবারিক পুজো ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে বহু ইতিহাস ও লোককথা। সঙ্গীতশিল্পী সনৎ সিংহের কালজয়ী গান ‘এক এক্কে এক, দুই এক্কে দুই…’ এই পুজোর আটচালাতেই রচিত হয়েছিল বলে জানা যায়, যা আজও বহু মানুষের শৈশবের স্মৃতি উস্কে দেয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় নন্দীবাড়ির ঠাকুরদালানেই চলত নবাসন প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গোপীকান্ত মেথুর জানান, ১৯৬৩ সালে নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রায় পাঁচ বছর এই ঠাকুরদালানেই পঠনপাঠন চলত। সেই সময়েই কচিকাঁচা পড়ুয়ারা দুর্গাপ্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়া দেখত, যা তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। ১৭৪২ সালে বর্ধমান মহারাজের দেওয়ান সন্তোষনারায়ণ নন্দী এই পুজোর সূচনা করেন। তাঁর দান করা জমিতে নয়টি সম্প্রদায়ের বসতি স্থাপনের পর ‘পণ্ডিত পল্লি’র নতুন নামকরণ হয় ‘নবাসন’।

এই পুজোর বিশেষত্ব হল এর বৈষ্ণব মতে পুজার্চনা এবং নিরামিষ বলিদান। চালকুমড়ো, আখ, বাতাবি লেবু, আদা, হলুদ ইত্যাদি দিয়ে বলি দেওয়া হয়। প্রতিমার সজ্জাতেও রয়েছে স্বতন্ত্রতা। দেবী দুর্গার ডানদিকে গণেশ ও লক্ষ্মী, বামদিকে কার্তিক ও সরস্বতী এবং দুই সখী জয়া-বিজয়া থাকেন। উল্টো রথের পর কাঠামো পুজোর মাধ্যমে পুজোর কাজ শুরু হয়। পুজোর দিনগুলিতে এখানে কোনো মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয় না, যা গ্রামীণ পরিবেশের এক অনন্যতা বজায় রাখে।