ইশা আম্বানির নবরাত্রির লেহঙ্গায় ‘রাসলীলা’, কলমকারি-পটচিত্রের যুগলবন্দি

নবরাত্রির তৃতীয় সন্ধ্যায় ইশা আম্বানির নজরকাড়া লেহঙ্গা। কলমকারি ও পটচিত্রের যুগলবন্দিতে ফুটে উঠল রাধাকৃষ্ণের রাসলীলা। ডিজাইনার করণ তোরানি ও স্বদেশের অনন্য সৃষ্টি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৪ অক্টোবর ২০২৬: উৎসবের আবহে ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন ইশা আম্বানি পিরামল।

সম্প্রতি নবরাত্রির তৃতীয় সন্ধ্যায় তাঁকে দেখা গেল সিল্কের উপর হাতে আঁকা এক অনবদ্য লেহঙ্গা-চোলিতে, যা ভারতীয় ঐতিহ্য ও রাজকীয় ফ্যাশনের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের পবিত্র ‘রাসলীলা’, যা কলমকারি এবং ওড়িশার বিখ্যাত পট্টচিত্র শিল্পরীতির এক বিরল যুগলবন্দি।

প্রখ্যাত ডিজাইনার করণ তোরানি এবং ভারতের লোকশিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ পোশাক। এই লেহঙ্গাটি কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং ভারতীয় হস্তশিল্পের এক জীবন্ত নিদর্শন।

ডিজাইনার করণ তোরানি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ জন অভিজ্ঞ কারিগর টানা ৯০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ হাতে এই পোশাকটি তৈরি করেছেন। খাঁটি সিল্কের ক্রিম রঙের ক্যানভাসে কলমকারি ও ওড়িশার পটচিত্র শৈলীতে রাধা ও কৃষ্ণের রাসলীলা চিত্রায়িত হয়েছে। লেহঙ্গার প্রতিটি কলি বা প্যানেলে ঘন নীল, লাল ও সোনালী রঙের ছোঁয়ায় দেব-দেবী ছাড়াও পদ্মফুল, ময়ূর এবং পৌরাণিক স্থাপত্যের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পোশাকটি আরও জমকালো করতে ছবি আঁকার পাশাপাশি জারদৌজি কাজ, ফ্রেঞ্চ নট, আসল মুক্তো এবং মিরর ওয়ার্কের মতো ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারি টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাকশিল্পীর মতে, লেহঙ্গার নকশায় দেবীর শক্তি এবং স্নেহ—দু’টি রূপকেই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

এই পোশাকের সঙ্গে ইশা আম্বানি তাঁর মা নীতা আম্বানির ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে বহু-স্তর বিশিষ্ট ভারী সোনা, মুক্তো ও দামি রত্ন খচিত চোকার সেট এবং মানানসই দুল ও এনামেল করা সোনার চুড়ি বেছে নিয়েছিলেন। ইশার চুলে বাঁধা কড়ি, পুঁতি ও কাপড়ের ফুলের বিশেষ অলঙ্কার তাঁর ভারতীয় কারুকাজের লেহঙ্গার সঙ্গে এক বোহো লুক যোগ করেছিল।