অরুণাচল সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাত জারি, প্রস্তুত আইটিবিপির ‘শৌর্য কমান্ডো’ বাহিনী: প্রধান

আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুর জানালেন অরুণাচল সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাত চলছে। নতুন 'শৌর্য কমান্ডো' বাহিনী প্রস্তুত, জোর দেওয়া হচ্ছে আধুনিকীকরণ ও প্রশিক্ষণে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুর জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে ভারতের সংঘাত এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে আইটিবিপির নবগঠিত ‘শৌর্য কমান্ডো’ বাহিনী তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে এবং তারা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। বাহিনীর ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাপুর জানান, চিনের সঙ্গে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রতিটি সীমান্ত ব্যাটালিয়নে এই কমান্ডোদের মোতায়েন করা হবে। আইটিবিপি আধুনিকীকরণের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে, যেখানে উদীয়মান যুদ্ধ প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

চিনকে ভারতের ‘সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ পদ্ধতি এখন আর যথেষ্ট নয়। বাহিনী প্রতিটি সীমান্ত-রক্ষী ব্যাটালিয়নে ড্রোন প্লাটুন তৈরি করেছে এবং কর্মীদের ড্রোন পরিচালনা ও প্রযুক্তি বিকাশের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরকার থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে আইটিবিপি, যার ৭০ শতাংশ ড্রোন যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৪,০০০ কোটি টাকার একটি আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে ১,০০০ কোটি টাকা ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের জন্য।

এছাড়াও, আইটিবিপি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি নতুন ‘স্ট্রাইক’ কোর্স তৈরি করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো বাহিনীকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফরওয়ার্ড লোকেশনে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি, সংঘর্ষের সময় দুর্বলতা কমাতে সীমান্ত এলাকায় ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রও তৈরি করছে বাহিনী।