আলিপুরদুয়ার: পুজোর আনন্দ কাটতে না কাটতেই গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনাল আলিপুরদুয়ারের কোহিনুর চা বাগানে। কাউকে কিছু না জানিয়েই বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে ম্যানেজারের বাংলো বন্ধ দেখে হতবাক হয়ে যান শ্রমিকরা। এরপরই বাগানের ভিতরে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগানের ৮৮৮টি শ্রমিক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কাজ করতে বাগানে পৌঁছন শ্রমিকরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ম্যানেজারের বাংলোর দরজা বন্ধ। বাগান কর্তৃপক্ষের কোনও আধিকারিককেও দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজখবর নিয়ে শ্রমিকদের দাবি, রাতের অন্ধকারেই কাউকে কিছু না জানিয়ে বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছেন ম্যানেজার।
ম্যানেজারের এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে কাজ বন্ধ রেখে বাগানের ভিতরেই জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শ্রমিকরা। তাঁদের প্রশ্ন, কেন হঠাৎ বাগান ছেড়ে চলে গেলেন ম্যানেজার? বাগানের ভবিষ্যৎ কী? আগামী দিনে তাঁদের কাজ ও সংসার চলবে কীভাবে?
কোহিনুর চা বাগানের উপর নির্ভরশীল কয়েকশো শ্রমিক পরিবার। পুজোর ছুটি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার আশায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ম্যানেজারের এই রহস্যজনকভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় সেই আশায় কার্যত জল পড়েছে। নতুন করে বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন শ্রমিকদের একাংশ।
ঘটনার পর শ্রমিক নেতৃত্বের তরফে স্থানীয় থানায় গিয়ে ম্যানেজার ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে মালিকপক্ষকে বাগানে এসে পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত ম্যানেজারের বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। মালিকপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কোহিনুর চা বাগানের অসংখ্য শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।








