পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার জন্য বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্টের কাছে কর্তব্যরত নিমতা ট্রাফিক গার্ডের পুলিশকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নুর ইসলাম। বাড়ি ফেরার জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। সেই সময় নিজেকে একজন পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দেন ওই যুবক। তাঁর কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ হওয়ায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান। এরপর তাঁর কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়।
অভিযোগ, নুর ইসলাম যে পরিচয়পত্রটি দেখান, সেটি পরীক্ষা করে পুলিশকর্মীদের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরিচয়পত্রটি স্ক্যান করে যাচাই করার পর দেখা যায়, সেটি আসল নয়। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন পুলিশকর্মীরা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত নুর ইসলাম নিজেই AI-এর সাহায্যে ওই জাল পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেন, পুলিশ সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। এরপর ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত দমদম থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর নুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আজ ধৃত যুবককে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। তবে এই ঘটনার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য কাজ করছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার জন্যই কি তিনি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করছিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বর্তমানে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কীভাবে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল, পরিচয়পত্রটি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে কোনও বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলছে, তেমনই তার অপব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে AI-এর সাহায্যে নকল পরিচয়পত্র তৈরির মতো অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে এই ঘটনায় ধৃত যুবকের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য অন্য কোনও যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্টে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আপাতত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দমদম থানার পুলিশ। তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।








