স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’দিন আগে পেটের ব্যথা নিয়ে কোচবিহার শহরের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট রোগী। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। এমনকি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার বিশেষ কোনও অবনতি লক্ষ্য করা যায়নি বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, গতকাল গভীর রাতে হঠাৎই হাসপাতাল থেকে তাঁদের ফোন করে জানানো হয় যে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছুটে আসেন রোগীর আত্মীয়স্বজনরা। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁরা জানতে পারেন, ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আচমকা এই খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোকের পরিবেশ বদলে যায় ক্ষোভে। রোগীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হলে হয়তো এই পরিণতি এড়ানো সম্ভব হত। যদিও পরিবারের এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিজনরা। তাঁদের বক্তব্য, এই মৃত্যুর পিছনে যদি চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি থেকে থাকে, তবে তার যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের তোলা অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালের বক্তব্য সামনে আসেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঠিক কখন হয়েছিল, কী ধরনের চিকিৎসা চলছিল এবং মৃত্যুর পিছনে প্রকৃত কারণ কী—সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সকলের।
কোচবিহার শহরের এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।








