স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ফুলন্দর গ্রামে। মৃত টোটোচালকের নাম জাহাঙ্গীর মোমিন। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নাবেরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। শনিবার অভিযুক্তকে জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে ফুলন্দর গ্রামের নিজের বাড়ি থেকেই জাহাঙ্গীর মোমিনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। সকালে বাড়িতে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বাভাবিক বলে মনে হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।
এরপরই মৃতের পরিবারের সদস্যরা জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নাবেরা খাতুনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদের পরিণতিতেই জাহাঙ্গীরকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মৃতের পরিজনরা। যদিও এই অভিযোগের সমস্ত দিক এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গতি বাড়ায় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযোগের সূত্র ধরে নাবেরা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তাঁকে জেরা। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্ত্রী। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং খুনের পিছনে থাকা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
শনিবার অভিযুক্তকে জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, এই ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পারিবারিক বিবাদই কি এই খুনের প্রধান কারণ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও ঘটনা বা পরিস্থিতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তাঁদের মধ্যে কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে।
একজন টোটোচালকের বাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ফুলন্দর গ্রামজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের সঠিক কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
এখন তদন্তকারী পুলিশের মূল লক্ষ্য, এই ঘটনার পিছনে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে। সামশেরগঞ্জের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।








