ব্যুরো নিউজ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: রাজ্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু ও সংলগ্ন ফালুট ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। গত এক মাসে দুই পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সান্দাকফু ও ফালুটগামী ট্রেকার এবং ল্যান্ডরোভারে যাওয়া সকল পর্যটকদের যাত্রা শুরুর আগে স্বাস্থ্যের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
যাঁদের কাছে এই শংসাপত্র থাকবে না, তাঁদের মানেভঞ্জন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে হবে। এই পরীক্ষায় যদি কোনও পর্যটককে আনফিট ঘোষণা করা হয়, তবে তাঁকে পাহাড়ের উপরের দিকে এগোতে দেওয়া হবে না। জিটিএ-র পর্যটন বিভাগের কর্তা দাওয়া গ্যালপো শেরপা জানিয়েছেন, পর্যটকদের জীবনহানি রুখতে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রসঙ্গত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচু পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্তে দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা শৈলশিরায় অবস্থিত সান্দাকফু ও ফালুটে ট্রেকিং অথবা বেড়াতে গিয়ে অক্সিজেনের অভাবে অনেক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এমনকি বেঘোরে প্রাণও হারাচ্ছেন।
এই নতুন ব্যবস্থার পাশাপাশি, মানেভঞ্জন থেকে ৩২ কিলোমিটার পথের যাত্রার সময় ল্যান্ডরোভার চালক ও গাইডের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা ও সাহায্য পাওয়া সহজ হবে, যা পর্যটকদের জন্য স্বস্তিদায়ক।








