আজম খানের জোহর বিশ্ববিদ্যালয় বাজেয়াপ্ত করল ইডি, আর্থিক তছরুপের অভিযোগ

ইডি আজম খানের জোহর বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করল। প্রায় ১,১৭০ কোটি টাকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবার সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আজম খানের মালিকানাধীন মোহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের মালিকানাধীন কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে রামপুরের আজিমনগর থানায় দায়ের করা ২৬টি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইডি জানতে পারে যে, সিঙ্ঘানখেরা গ্রামে প্রায় ৩৪ একর জুড়ে বিস্তৃত ৪৫টি ‘শত্রু সম্পত্তি’ আজম খান বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবৈধভাবে দখল করেছিলেন। অথচ, ‘কাস্টোডিয়ান অফ এনিমি প্রপার্টি’ আগেই ট্রাস্টের অনুকূলে থাকা ইজারা চুক্তি বাতিল করে দিয়েছিলেন।

ইডি আরও জানিয়েছে, সরকারি কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত ক্যাম্পাসে সরকারি প্রকল্পের কাজ করানো হয়েছিল এবং সরকারি কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদাররা প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ অনুদান হিসেবে ট্রাস্টকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বিশেষত, প্রায় ১৮৬ কোটি টাকার সরকারি পূর্ত বিভাগের কাজ পাওয়া একটি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্বীকার করেছেন যে, চুক্তিমূল্যের ৩০–৪০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্য একটি সংস্থা ট্রাস্টকে ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, রামপুর নগর পালিকার জন্য কেনা পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও, ইডি উল্লেখ করেছে যে, বিধায়ক ও বিধান পরিষদ সদস্যদের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৬.৬০ কোটি টাকা উত্তরপ্রদেশ জল নিগমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি প্যান্ডেল, ওবিসি ছাত্রদের হোস্টেল এবং একটি হাসপাতাল ব্লক তৈরির জন্য ২৩.৪১ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছিল। এর আগে আয়কর বিভাগ আয়কর আইনের অধীনে ট্রাস্টটির নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছিল।

তাই দীর্ঘ তদন্তের পর বিশ্বাবিদ্যালয়কে বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে ইডি। এই বাজেয়াপ্ত করার ফলে আজম খান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের উপর চাপ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আজম খানের বিরুদ্ধে আরও তদন্তের পথ খুলে গেল। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের উপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আজম খান বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।