ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: উত্তর কলকাতার ত্রাস ও ক্ষমতার প্রতীক কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত, যিনি ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর জমকালো কালীপুজো আজও লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কলেজ স্ট্রিটের এক সাধারণ পানের দোকানের ছেলে থেকে শহরের অন্যতম প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ফাটাকেষ্টর জীবনে মা কালীর প্রতি অগাধ ভক্তি ছিল। সত্তরের দশকে যখন শহর নকশাল আন্দোলনে উত্তাল, তখন পুলিশের সহায়ক বাহিনী ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’-এর সদস্য হিসেবে তাঁর উত্থান শুরু হয়।
ফাটাকেষ্টর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল কালীপুজো। সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে ১৬ ফুট উঁচু প্রতিমা এবং চন্দননগরের চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসত। প্রায় ১২ দিন ধরে চলা এই পুজো ও তার বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এক বিশাল উৎসবে পরিণত হত। এই জাঁকজমকপূর্ণ পুজোয় বলিউডের তাবড় তারকারাও আসতেন।
১৯৭৬ সালে ‘দো আনজানে’ ছবির শুটিংয়ের জন্য কলকাতায় এসে অমিতাভ বচ্চন ফাটাকেষ্টর আমন্ত্রণে এই পুজো মণ্ডপে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, অমিতাভ ও জয়া বচ্চন মায়ের জন্য পাঠিয়েছিলেন একটি হিরে বসানো নাকছাবি। শোনা যায়, সেই নাকছাবি চুরি হয়ে গেলেও, তার আদলে তৈরি একটি প্রতিলিপি আজও পুজোর অন্যতম ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে, কিন্তু ফাটাকেষ্টর সেই তেজোদীপ্ত স্মৃতি এবং তাঁর কালীপুজোর জৌলুস আজও শহরবাসীর মনে অমলিন।








