ব্যুরো নিউজ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নাম কাটার আশঙ্কায় যখন ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল, তখনই এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল কমিশন।
শনিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলিতে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘আনম্যাপড’ হওয়ার কারণে যাঁদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের আর সরকারি দফতরে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এখন থেকে বিএলও-রা সরাসরি নোটিশ প্রাপ্ত ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করবেন।
এছাড়াও, সাধারণ ভোটারদের ইআরও বা এইআরও দফতরে শুনানির জন্য হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। কেবল চরম ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই শুনানির ডাক দেওয়া হবে, যা সম্ভব হলে অনলাইনে সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনে ভোটারের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
দরিদ্র, গৃহহীন এবং শ্রমিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিটি জেলার নির্বাচন আধিকারিকদের বিশেষ ক্যাম্প বা ‘এনরোলমেন্ট ড্রাইভ’ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ২০টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেও, নতুন ভোটার বা যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ‘কন্টিনিউয়াস আপডেট’-এর অধীনে পুনরায় আবেদন জানাতে পারবেন।
‘ECINET’ পোর্টালের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিতর্কের মুখে কমিশনের এই একযোগে সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।








