নিউজ ব্যুরো, ২৬ জুন ২০২৬: কলকাতার তারাতলায় ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। দুর্ঘটনার প্রায় দু’দিন পার হয়ে গেলেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)। তাদের সাথে কলকাতা পুলিশ, দমকল ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু শ্রমিকদের সঠিক তালিকা না থাকা এবং রাতের অন্ধকার, প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত উদ্ধারকাজে বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। প্রাণের সন্ধানে থার্মাল ইমেজিং সেন্সরও ব্যবহার করা হচ্ছে। লোহার বিম কেটে এবং ভারী কংক্রিটের চাঁই ও স্ল্যাব সরিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের পরিচয় এখনও মেলেনি। শুক্রবার ভোরে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মন্নু কুমার (১৯) ও সাহিল সর্দার। বুধবারই মন্নু কুমারকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বিহারের মুঙ্গের থেকে আসা এই তরুণ তারাতলার গোডাউনে কাজ করতেন। তাঁর ভাই ঘি কুমার আগেই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাঁদের বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সরকারি সূত্রে খবর, এসএসকেএম হাসপাতালে এখনও ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তারাতলার বি২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে গোডাউনটি ভেঙে পড়েছিল। তদন্তকারীরা নির্মাণকারী সংস্থার গাফিলতি স্পষ্ট বলে মনে করছেন। এই ঘটনায় মূল লিজ়-হোল্ডার সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর কর্ণধার শম্ভুনাথ বেহরা সমেত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ ও আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।








