চোরবাগান বিপর্যয় কাণ্ডে ১৫ মিনিটের ফুটেজই মূল সূত্র, গোয়েন্দাদের নজরে সিসিটিভি

চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে ১৯ মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ১৫ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজই মূল সূত্র। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অক্সিজেনের অভাবের কারণ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। লালবাজারের গোয়েন্দারা এখন মূলত একটি ১৫ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজের উপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, গত সপ্তমীর রাতে সন্ধ্যা সোয়া সাতটা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই ফুটেজেই লুকিয়ে আছে দুর্ঘটনার মূল রহস্য। ইতিমধ্যেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মণ্ডপের ভিতরে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অক্সিজেনের অভাবই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ও অসুস্থতার অন্যতম কারণ।

বদ্ধ মণ্ডপের মধ্যে এত মানুষের সমাগমই পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ঘটনার দিন পুলিশকর্মীরা বারবার দর্শনার্থীদের মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও, বৃষ্টির কারণে কেউই বাইরে বের হতে চাননি। উল্টোদিকে, বাইরে থেকে ক্রমাগত দর্শনার্থীরা জোর করে মণ্ডপে প্রবেশ করছিলেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভিড়ের চাপে মণ্ডপের ভিতরে দমবন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়, যা প্রাণহানির কারণ হয়।

গোয়েন্দারা মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। জানা গেছে, এই নিরাপত্তারক্ষীরা কোনো বিশেষ সংস্থা থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন না এবং তাদের অদক্ষতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

এই ঘটনার তদন্তে থিমশিল্পী সুশান্তকে তলব করা হয়েছে এবং আরও তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এই ১৫ মিনিটের ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে কার গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট করার জন্য জোর কদমে চলছে তদন্ত।