ব্যুরো নিউজ, ২৬ মে ২০২৬ঃ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণে ভারতের জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি রেকর্ড সংখ্যকবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার জেরে দেশের প্রায় সমস্ত মেট্রো শহরে পেট্রোলের দর সেঞ্চুরি পার করেছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ সব রাজ্যের মানুষের পকেটে সমানভাবে পড়ছে না।
দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোলের দাম যেখানে ১০২.১২ টাকা, সেখানে কলকাতায় সেই দাম ১১৩.৫১ টাকা। মুম্বাইতে ১১১.২১ টাকা এবং চেন্নাইতে ১০৭.৭৭ টাকা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই রকম। রাজ্যভেদে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকার এই বিশাল ফারাক সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আসলে, ভারতের ট্যাক্স বা কর ব্যবস্থার সমীকরণ সহজ করার জন্য জিএসটি চালু করা হলেও পেট্রোল এবং ডিজেলকে এখনও পর্যন্ত এর কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে। আর এটাই দামের এই বিপুল তারতম্যের প্রধান কারণ। জ্বালানি তেল জিএসটির বাইরে থাকার কারণে প্রতিটি রাজ্য সরকার নিজেদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল ও ডিজেলের উপর নিজস্ব হারে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) এবং সেস চাপাতে পারে।
কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে অভিন্ন আবগারি শুল্ক আদায় করলেও, খুচরা বাজারে তেলের চূড়ান্ত দাম সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের ভ্যাট কাঠামোর উপর নির্ভর করে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সমস্ত রাজ্যের রাজস্বের ঘাটতি বেশি থাকে, তারা সাধারণত জ্বালানির উপর করের পরিমাণ বেশি রাখে, কারণ এটি তাদের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান উৎস। তেলেঙ্গানায় পেট্রোলের উপর ভ্যাটের হার প্রায় ৩৫.২%, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্ধ্রপ্রদেশেও উচ্চ হারে ভ্যাট ও অতিরিক্ত সেস নেওয়া হয়। এই কারণেই অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কেরালা, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে জ্বালানির দাম চড়া।








