দুর্গাপুজোর আগে কুমোরটুলিতে মাটির চরম সঙ্কট, সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন মৃৎশিল্পীরা

দুর্গাপুজোর আগে কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির মাটির চরম সঙ্কট। কাজ থমকে, সরকারের সাহায্য চাইলেন মৃৎশিল্পীরা। হাজার হাজার কারিগরের রুজি-রুটি বিপন্ন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ : দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র কয়েকমাস বাকি। কিন্তু তার আগেই চরম সঙ্কটে কলকাতার কুমোরটুলি। প্রতিমা তৈরির মূল উপাদান আঠালো মাটির অভাবে কাজ একপ্রকার থমকে রয়েছে। হুগলি নদীর পাড়ের এই বিশেষ ধরনের মাটি ছাড়া প্রতিমার সূক্ষ্ম গঠন তৈরি করা অসম্ভব, ফলে কাঠামো তৈরি হলেও বাকি কাজ বিশ বাঁও জলে।

মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে মাটির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। এর ফলে শুধু দুর্গাপ্রতিমাই নয়, সারা বছরের বিভিন্ন পার্বণের মূর্তি তৈরির কাজও ব্যাহত হচ্ছে। কুমোরটুলির বিশিষ্ট শিল্পী মিন্টু পাল এইসময় অনলাইনকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মাত্র দশ দিনের মতো মাটির মজুত রয়েছে। প্রশান্ত পাল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কাজ বন্ধ থাকলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা কারিগরদের রুজি-রুটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে শিল্পীরা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী মারফত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক মাটি চুরি হলেও নতুন সরকারের আমলে বেআইনি মাটি তোলা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু বৈধ উপায়েও মাটি কাটার অনুমতি মিলছে না। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিং অঞ্চল থেকে এই মাটি আসত।

প্রশাসন সূত্রে খবর, লাইসেন্স ছাড়া মাটি তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চলায় সরবরাহ বন্ধ। কুমোরটুলি ছাড়াও ক্যানাল ইস্ট রোড আর্টিসন অর্গানাইজ়েশন-সহ বিভিন্ন শিল্পী সংগঠনও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে বড় পুজো কমিটির অর্ডার আসা শুরু হবে, কিন্তু এখনই সমস্যার সমাধান না হলে শিল্পীরা অর্ডার নিতে পারবেন না। বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। শিল্পীদের একটাই প্রশ্ন, দুর্গাপুজোর আগে পর্যাপ্ত মাটি মিলবে তো?