রাজ্য বাজেটে কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা: ডাল-আনাজ নিয়ন্ত্রণে ১০০ কোটির ফান্ড, আলু-ধান চাষিদের বিশেষ সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গ বাজেটে কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী ঘোষণা। ডাল-আনাজ নিয়ন্ত্রণে ১০০ কোটি, আলু-ধান চাষিদের বিমা, উন্নত বীজ ও অতিরিক্ত মূল্য। ফার্মার্স আইডি ও ডিজিটাল ক্রেডিট কার্ড চালু।

Share:

নিউজ ব্যুরো, ২২ জুন ২০২৬:  রাজ্য বাজেটে কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় আনাজ ও ডালশস্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, ডাল ও তৈলবীজের বাজারদর স্থিতিশীল রাখা হবে। একইসঙ্গে, ফসল নষ্ট হওয়া আটকাতে বড় আকারের হিমঘর ও প্যাকিং সেন্টার তৈরিতে সরকার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেবে, যার জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

আলু ও ধান চাষিদের জন্যও বাজেটে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। আলু চাষিদের ফসল বিমার প্রিমিয়ামের ৫০ শতাংশ সরকার বহন করবে। এছাড়া, ভালো বীজের অভাব মেটাতে চাষিদের বিনামূল্যে উন্নতমানের আলু বীজ দেওয়া হবে, যার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বেশি ফলনের বছরে লোকসান এড়াতে সরকার কুইন্টাল প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা দিয়ে আলু কিনবে। খারিফ মরশুমে ধান বিক্রি করলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপর কুইন্টাল প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইনসেন্টিভ দেওয়া হবে। আগামী দিনে ধানের সরকারি দাম ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স আইডি’ চালু করার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার কেনা থেকে সরকারি সাহায্য ও ফসল বিক্রির সুবিধা আরও সহজ হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সহায়তায় ডিজিটাল কিসান ক্রেডিট কার্ডও চালু হচ্ছে, যা ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে দ্রুত করবে। প্রাকৃতিক উপায়ে চাষবাসে জোর দেওয়ার পাশাপাশি, খড়গপুর আইআইটি-র সহায়তায় চাষের কাজে ড্রোন, স্মার্ট সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে। বাণিজ্যিক ফুল চাষ, আম রপ্তানি পরিকাঠামো এবং পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নেও বিশেষ বরাদ্দ করা হয়েছে।