বেহালা ১১ পল্লীর পুজোয় মধ্যপ্রদেশের গোন্ড শিল্পকলা, মুগ্ধ করবে মণ্ডপ ও প্রতিমা

বেহালা ১১ পল্লীর দুর্গাপূজা ২০২৬-এ মধ্যপ্রদেশের ২০০০ বছরের পুরনো গোন্ড শিল্পকলা। শিল্পী সুব্রত পালের তত্ত্বাবধানে মণ্ডপ ও প্রতিমা সেজে উঠছে এই আদিবাসী রীতিতে। এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আর মাত্র ক’টা দিনের অপেক্ষা। তারপরই শুরু হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা।

২০২৬ সালের পুজোয় শহর কলকাতার মণ্ডপগুলিতে দেখা যাবে নানা চমক। এর মধ্যেই নজর কাড়তে চলেছে বেহালা ১১ পল্লী ক্লাবের এবারের আয়োজন। মধ্যপ্রদেশের প্রাচীন গোন্ড শিল্পকলাকে এবার নিজেদের মণ্ডপে তুলে ধরছে তারা। প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো এই আদিবাসী শিল্পরীতিতে সেজে উঠছে গোটা মণ্ডপ।

গোন্ড শিল্প ভারতের বৃহত্তম আদিবাসী জনজাতিগুলির অন্যতম। দ্রাবিড় শব্দ ‘কোন্ড’ থেকে উদ্ভূত এই শিল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হল বৃত্ত, ত্রিভুজ, বিন্দু ও রেখার জটিল জ্যামিতিক নকশা, যা ‘ডিগনা’ নামে পরিচিত। গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ থেকে শুরু করে মহাজাগতিক সৃষ্টিও ধরা পড়ে এই ছবিতে।

শিল্পী সুব্রত পালের তত্ত্বাবধানে বেহালা ১১ পল্লীর মণ্ডপ ও প্রতিমা এই বিশেষ শিল্পধারায় সজ্জিত হচ্ছে। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করলেই যেন মধ্যপ্রদেশের প্রাচীন জনজাতির এক পাড়ায় পৌঁছে যাবেন। গোন্ড শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ চিত্রাঙ্কন, নৃত্য পরিবেশন এবং ধামসা-মাদলের বাদ্যের আবহ মণ্ডপ জুড়ে এক ভিন্ন মেজাজ তৈরি করবে।

দুর্গাপূজা কেবল উৎসব নয়, এটি শিল্প ও সংস্কৃতির এক মিলনক্ষেত্র। বেহালা ১১ পল্লীর এই অভিনব ভাবনা নিঃসন্দেহে দর্শকদের মন জয় করবে এবং মধ্যপ্রদেশের সমৃদ্ধ আদিবাসী শিল্পকলাকে কলকাতার বুকে এক নতুন পরিচিতি দেবে। এই পুজোয় শিল্পপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।