ব্যুরো নিউজ, ৮ নভেম্বর ২০২৬: অমাবস্যার রাতে হুগলির ত্রিবেণীতে এক অন্যরকম দেবীর আরাধনা হয়, যা আজও বহু মানুষকে টানে। এই মন্দিরের নাম ‘ডাকাত কালী’। শত শত বছরের পুরনো এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় কাহিনী। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, বহু বছর আগে এই ত্রিবেণী সংলগ্ন জঙ্গল ছিল কুখ্যাত ডাকাত রঘু এবং তার দলের আখড়া। তারা বিশ্বাস করত, মা কালীর আশীর্বাদ ছাড়া তাদের কোনো কাজই সফল হবে না। তাই ডাকাতি করতে বেরোনোর আগে গভীর রাতে তারা দেবীর পুজো করত এবং দেবীকে তুষ্ট করতে নরবলি পর্যন্ত দিত।
এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধক রামপ্রসাদের এক অলৌকিক কাহিনী। কথিত আছে, একবার সাধক রামপ্রসাদ এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় রঘু ডাকাতের হাতে ধরা পড়েন। ডাকাতরা তাঁকে দেবীর সামনে বলি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু সাধকের ভক্তিপূর্ণ গান শুনে এবং তাঁর অলৌকিক মহিমায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাতরা তাঁর মধ্যে দেবীর দর্শন পায়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাধককে মুক্তি দেয় এবং নরবলির প্রথা বন্ধ করে দেয়। যদিও নরবলির প্রথা এখন বন্ধ, তবুও সেই ইতিহাসের রেশ আজও এই পুজোর রীতিনীতিতে রয়ে গেছে। ত্রিবেণীর ডাকাত কালীর পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল মায়ের ভোগ।
এখানে দেবীকে অন্ন-ব্যঞ্জনের পাশাপাশি নিবেদন করা হয় বিশেষ ঐতিহ্যবাহী ‘ল্যাটা মাছ পোড়া’। এই ঐতিহাসিক মন্দির এবং তার প্রাচীন প্রথা দেখতে আজও বহু ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে ত্রিবেণীতে ভিড় জমান। এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় আরাধনাই নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাস যা আজও মানুষকে আকর্ষণ করে।










