ইতিহাস গড়ে মহাকাশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর অনিল মেনন, ৮ মাস কাটাবেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর অনিল মেনন ৮ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিলেন। জানুন তাঁর ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা ও কেরল যোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুলাই ২০২৬ :  আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) উদ্দেশে ঐতিহাসিক আট মাসের মিশনে পাড়ি দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর অনিল মেনন। ১৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে কাজাখস্তানের ঐতিহাসিক বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে চেপে তিনি মহাশূন্যে যাত্রা শুরু করেন। নাসার এই বিজ্ঞানী, যিনি একাধারে প্রশিক্ষিত নভশ্চর, চিকিৎসক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তাঁর এই যাত্রা ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। এই অভিযান বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে।

অনিল মেননের মহাকাশযাত্রার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত, বিশেষ করে কেরল রাজ্য। তাঁর পারিবারিক শিকড় এই রাজ্যের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে। আমেরিকার মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে জন্ম হলেও, তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা এবং কঠোর প্রশিক্ষণ তাঁকে নাসার অভিজাত নভশ্চর দলে স্থান পেতে সাহায্য করেছে। এর আগে সুনীতা উইলিয়ামসের মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চররা মহাকাশে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। বৈকানুর কসমোড্রোম থেকেই ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মাও মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন, যা এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। আট মাস ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে অনিল মেনন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এই মিশনে তাঁর ভূমিকা মহাকাশে মানবজাতির উপস্থিতি এবং গবেষণার পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তাঁর এই মহাকাশযাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতীকও বটে। অনিল মেননের এই অভিযান বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহী হতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং সফল মিশনের জন্য গোটা বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।