ব্যুরো নিউজ, ৩ জুলাই ২০২৬ঃ অযোধ্যার রাম মন্দিরের কোটি কোটি টাকার অনুদান ও গয়না চুরি কেলেঙ্কারিতে চাঞ্চল্যকর মোড়। এই প্রথমবার জনসমক্ষে এসেছে এমন ছবি, যেখানে মামলার মূল দুই অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা এবং অনুকল্প মিশ্রকে সরাসরি রাম মন্দির চত্বরের সুরক্ষিত গণনা কক্ষের ভেতরে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই ঘরেই ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ গোনা হত। পুলিশ এই ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে অবিনাশ ও অনুকল্প অন্যতম। বাকি ধৃতেরা হল তিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ টাকা গায়েব করার সময় অভিযুক্তদের মনে প্রথমদিকে ভয় থাকলেও, পরে তা কেটে যায়। কারণ, মন্দিরের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমটি প্রথমদিকে কেউই মনিটর করছিল না। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শুরুর দিকে তারা ক্যামেরার নজর এড়ানোর চেষ্টা করলেও, পরে ক্যামেরার সামনেই অবলীলায় নোটের বান্ডিল সরাতে শুরু করে। এসআইটি-র তদন্তে আরও একটি বড় প্রশাসনিক গলদ সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (যিনি কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর ইস্তফা দিয়েছেন), তিনি তৎকালীন ট্রাস্টি অনিল মিশ্রর হাতে টাকা গোনার প্রক্রিয়ার সমস্ত ‘সুপ্রিম পাওয়ার’ তুলে দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে ১০ জন নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়, যাদের ইন্টারভিউ ও চূড়ান্ত বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল অনিল মিশ্রের। সবচেয়ে মারাত্মক গাফিলতি হল, কাজে যোগ দেওয়ার সময় এই নতুন কর্মীদের কারোর কাছেই কোনও বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না। ট্রাস্টের দেওয়া একটি সাধারণ ‘ডিউটি শিট’ দেখিয়েই তাঁরা প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণে যাতায়াত করতেন। ভক্তদের বিপুল ভিড় সামলাতে দুটি পৃথক গণনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল – একটি পিলগ্রিম ফেসিলিটেশন সেন্টারে এবং অন্যটি পুলিশ পোস্টের ঘরে। এই ঘটনা রাম মন্দিরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।








