বাংলাদেশে রামমূর্তি নির্মাণ উদ্যোগ: আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার হরিদাস চন্দ্র

বাংলাদেশে ৮১ ফুট রামমূর্তি তৈরির উদ্যোগের পিছনে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। গ্রেফতার রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র। ৯ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৩ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস। তবে রবিবার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঢাকার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি কালোবাজারির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং ধর্মীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের সিআইডি বিভাগ প্রথমে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছিল। সেই সূত্র ধরেই গাইবান্ধা থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১২ জুলাই সিআইডির আবেদনের পর উত্তরা পশ্চিম থানা বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০২২ এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী হরিদাস চন্দ্র সহ আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পরে তাঁকে ঢাকায় এনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিআইডির তদন্তে অভিযুক্তের নামে থাকা মোট পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং চারটি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গত ২ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ব্যবসার আড়ালে দেশী এবং বিদেশি মুদ্রা পাচার করতেন হরিদাস। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি টাকার বেশি তুলে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, হরিদাসের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত রয়েছেন। অসাধু উপায়ে এই টাকা উপার্জন করা হয়েছে বলে দাবি সিআইডির। রামমূর্তি গড়ে তোলার আড়ালে এই আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে বলেই সিআইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যা তদন্তের নতুন মোড় এনেছে।