ব্যুরো নিউজ, ৪ জুলাই ২০২৬ঃ মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের উপর চলছে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অপরাধ প্রবণতার কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে মিশরের মতো ইসলামিক দেশেও। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির কার্যকলাপের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রতি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি চালাচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘কায়রো টু ঢাকা ফ্রি টিকিট’, ‘১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত মালপত্র’ ইত্যাদি প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহনের প্রবণতা। বহু যাত্রী ব্যক্তিগত লাগেজের আড়ালে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী, ওষুধ বা অন্যান্য বাণিজ্যিক সামগ্রী বহন করছেন। এমনকি গাঁজা পাচারের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এই কড়াকড়ির ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রবাসী এবং বৈধভাবে ব্যক্তিগত মালপত্র বহনকারী যাত্রীরাও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি ১ জুলাই কায়রো বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ফ্লাইটে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেকের মালপত্র একাধিকবার পরীক্ষা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে লাগেজ গ্রহণেও অনীহা দেখানো হয়। এর ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় মালপত্র ফেলে যেতে বাধ্য হন। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কর্মকর্তারা সন্দেহের চোখে দেখেন। কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে মিশরে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই সাময়িক লাভের আশায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।








