ব্যুরো নিউজ, ৮ নভেম্বর ২০২৬: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে কি নতুন করে শক্তির লড়াই শুরু হতে চলেছে? একদিকে আমেরিকা, অন্যদিকে চিন—বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশের সামুদ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে নজর কাড়ছে চিনের দ্রুত বেড়ে ওঠা নৌবাহিনী। ইতিমধ্যেই ৪০০-র বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর গড়ে তুলেছে বেজিং। সংখ্যার নিরিখে যা মার্কিন নৌবহরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
আমেরিকার সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি চিনা নৌযান এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে সক্রিয় থাকে। দক্ষিণ চিন সাগর, তাইওয়ানের আশপাশ, জাপানের জলসীমা থেকে শুরু করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত চিনের এই উপস্থিতি। এমনকি এডেন উপসাগরেও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে চিনা নৌবাহিনী।
বর্তমানে চিনের হাতে রয়েছে তিনটি বিমানবাহী রণতরী। আরও একটি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরিতেও বিপুল বিনিয়োগ করছে বেজিং। ২০২০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৭১টি বড় যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করেছে চিন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, মার্কিন সামরিক কর্তাদের অনুমান, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত মহাসাগর ও আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিতভাবে চিনা সাবমেরিনের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। ফলে শুধু আমেরিকা নয়, ভারত-সহ গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণেও বড় প্রভাব পড়তে পারে চিনের এই সামরিক সম্প্রসারণের।
প্রশ্ন উঠছে, ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় এবার কি আরও শক্তিশালী সামুদ্রিক কৌশল নিতে হবে নয়াদিল্লিকে?










