ব্যুরো নিউজ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, যিনি চিন্ময় প্রভু নামেই পরিচিত, অবশেষে জেল থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেন। মায়ের মৃত্যুর কারণে তাঁকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই নির্দেশ জারি করে। এদিন সকালেই চিন্ময় প্রভুর মা সন্ধ্যা রানি ধর প্রয়াত হন। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা রানি ধর মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। চিন্ময় প্রভুও দীর্ঘদিন এই আশ্রমেই থাকতেন। অসুস্থ হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। এরপরেও হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রানি ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জেলে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তাঁর অনুগামীরা এগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর এই প্যারোলে মুক্তি একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই স্বল্প সময়ের মুক্তি নিয়ে তাঁর অনুগামী এবং সনাতনী সমাজের একাংশের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এবং পরিবারের সঙ্গে শোক পালনের জন্য আরও বেশি সময় প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চিন্ময় প্রভুর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে এবং তাঁর কারাবাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই ঘটনা আবারও দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে।








