ব্যুরো নিউজ, ১৬ আগস্ট ২০২৬: সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর অধীনে ২১ লক্ষেরও বেশি পিএফ অ্যাকাউন্ট দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে, যেখানে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এই খবর দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত পুঁজি নিয়ে চিন্তিত। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিষ্ক্রিয় থাকা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানান। সাংসদ নীরজ ডাঙ্গির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১১,৭২,৯২৩, যা ২০২৩-২৪ সালে সরাসরি বেড়ে ২১,৫৫,৩৮৭ হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র চার বছরে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৮৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এক উদ্বেগজনক প্রবণতা। একই সময়ে, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা গড় ব্যালেন্সও ১৮% বেড়েছে, যা ২০২০-২১ সালে ৩৩,৫১৩ টাকা থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৩৯,৪৬০ টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিষ্ক্রিয় থাকার প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে চাকরি পরিবর্তনের পর পুরোনো পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা না তোলা বা নতুন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর না করা। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীরা এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থায় যোগদানের পর পুরোনো পিএফ অ্যাকাউন্টের বিষয়ে উদাসীন থাকেন।
এছাড়াও, সাম্প্রতিক কেওয়াইসি (KYC) এবং আধার সিডিং কার্যক্রমের সময় অনেক পুরোনো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হয়েছে, যেগুলি জন্মতারিখ বা সম্পূর্ণ তথ্যের অভাবে আগে তালিকার বাইরে ছিল এবং এখন নিষ্ক্রিয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। EPFO সদস্যদের দ্রুত তাদের অ্যাকাউন্টের অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের জমানো পুঁজি সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয়। এই বিষয়ে EPFO নিয়মিত সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে।








