হৃদরোগ, ডায়াবেটিস সহ ৩০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বেঁধে দিল সরকার

কেন্দ্রের নির্দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস সহ ৩০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বেঁধে দিল NPPA। সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ আরও সাশ্রয়ী হবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩১ মে ২০২৬ঃ সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) ৩০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) নির্ধারণ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের অধীনস্থ এই সংস্থাটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি, ভিটামিনের ঘাটতি এবং স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের দাম বেঁধে দেওয়ায় রোগীদের অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ কেনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এনপিপিএ-এর বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার উৎপাদিত নির্দিষ্ট ওষুধের খুচরো মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন ডি৩ ওরাল সলিউশন এবং ক্যালশিয়াম, মিথাইলকোবালামিন সমৃদ্ধ ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ও স্নায়বিক দুর্বলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অ্যাটরভাস্ট্যাটিন ও ফেনোফাইব্রেট ট্যাবলেট এবং অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিলাস্টিন ও মন্টেলুকাস্ট ট্যাবলেটের দামও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের জন্য বিসোপ্রোলল ফিউমারেট ও অ্যামলোডিপাইন সমন্বিত ট্যাবলেটের মূল্যও নির্ধারিত হয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্যেও সুখবর। এমপাগ্লিফ্লোজিন, সিটাগ্লিপটিন এবং মেটফর্মিন এক্সটেন্ডেড রিলিজ সমন্বিত ট্যাবলেটের মূল্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত বহু রোগীর আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

এনপিপিএ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ঘোষিত মূল্যের মধ্যে জিএসটি অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে, নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।