হানি ট্র্যাপে পড়ে তথ্য পাচার: দিল্লি পুলিশের হাতে বায়ুসেনার উইং কমান্ডার গ্রেফতার

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার গ্রেফতার। স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগ, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা। পাক গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশের সন্দেহ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ আগষ্ট ২০২৬ : ‘হানি ট্র্যাপের’ ফাঁদে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার এক কর্মরত উইং কমান্ডারকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, তিনি দেশের সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইন বা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এর পেছনে ভারতীয় সামরিক ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার গোপন তথ্য হাতানোর এক বৃহত্তর আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক যুক্ত থাকতে পারে। তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার সঙ্গে ওই উইং কমান্ডারের আলাপ হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের কথোপকথন নিয়মিত ভিডিও কলে রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই মহিলা কৌশলে সামরিক কর্তার বিশ্বাস অর্জন করে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন গোপন পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। উইং কমান্ডার ওই মহিলার ফাঁদে পা দিয়ে সামরিক ইউনিটের মোতায়েন, চলাচলের ছবি, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করেন। পুলিশের সন্দেহ, ওই মহিলা পাকিস্তানের কোনও গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত উইং কমান্ডারকে দিয়ে তাঁর সহকর্মী অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করানোর চেষ্টা করেছিল ওই মহিলা।

তদন্তকারীদের আশঙ্কা, অ্যাপটি কোনও বিপজ্জনক স্পাইওয়্যার হতে পারে, যার উদ্দেশ্য ছিল সেনা কাঠামোর ভেতর পর্যন্ত নজরদারি চালানো। ভারতীয় বায়ুসেনার নিজস্ব গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে উইং কমান্ডারকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ডিজিটাল ট্রোল বিশ্লেষণ করে দেখছে যে ঠিক কতটা গোপন তথ্য বাইরে পাচার করা হয়েছে এবং বিদেশে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।