সাইবার হানার নিশানায় ভারত বিশ্বে সপ্তম, এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে মাইক্রোসফটের সতর্কবার্তা

সাইবার হানায় ভারত বিশ্বে সপ্তম, এশিয়ায় তৃতীয়। মাইক্রোসফটের সতর্কবার্তা, এআই অপরাধীদের হাতে নতুন অস্ত্র।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: সাইবার হামলার নিরিখে ভারত বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম লক্ষ্যবস্তু এবং এশিয়ার তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

মাইক্রোসফটের এক শীর্ষ আধিকারিক এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ মাইক্রোসফটের এআই ও সাইবার নিরাপত্তা নীতির ডিরেক্টর নিকোলাস বাটস সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন অপরাধীদের জন্য র‍্যানসমওয়্যার এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো সাইবার হামলা চালানো আরও সহজ করে দিচ্ছে। এর ফলে ছোট অপরাধী গোষ্ঠীগুলিও সহজে সাইবার অপরাধে লিপ্ত হতে পারছে, যা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সুরক্ষার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বাটস জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ১০ বছর পরের সম্ভাব্য বিপদের কথা বলছি না, বরং আজকের দিনের বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলছি।” তিনি ‘স্টর্ম ৩১৬৮’ বা ‘জেডপাফার’ নামে একটি চিনের র‍্যানসমওয়্যার অপারেশনের উদাহরণ দেন, যা বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের বিরুদ্ধে এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে। এই ধরনের হামলাগুলি ডেটা চুরি, সিস্টেম অচল করে দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

এছাড়াও, রাশিয়া ও চিনের গুপ্তচর সংস্থাগুলি গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ‘স্টর্ম ০৯৪০’ এর মতো এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে বলে মাইক্রোসফট ট্র্যাক করেছে। এই এআই এজেন্টগুলো সাধারণত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। বাটস ‘এভিলটোকেনস’ নামে একটি এআই কোডিং টুল ব্যবহার করে তৈরি অপরাধী পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করেন, যা ১২০টি দেশের ১০,০০০-এরও বেশি সংস্থাকে প্রভাবিত করেছে। যদিও ভারতে এর প্রভাব কতটুকু, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি, তবে এই ধরনের টুলগুলি সাইবার অপরাধের পরিধিকে দ্রুত বিস্তৃত করছে।

বাটস বলেন, “ভারতের জন্য এই হুমকি অত্যন্ত বাস্তব এবং তাৎক্ষণিক।” মাইক্রোসফট প্রতিদিন প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ইমেল স্ক্যান করে তাদের ব্যাপক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই মূল্যায়ন করেছে, যা এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করে। দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষায় এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।