জার্মানির প্রত্যাহারের পর চালকহীন যুদ্ধবিমান তৈরিতে ভারতের দিকে তাকিয়ে ফ্রান্স, ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রকল্পে নতুন মোড়

জার্মানির প্রত্যাহারের পর ফ্রান্সের ষষ্ঠ প্রজন্মের চালকহীন যুদ্ধবিমান প্রকল্পে যোগ দিতে পারে ভারত। FCAS প্রকল্পের লক্ষ্য AI-নির্ভর ড্রোন সহ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ আগষ্ট ২০২৬ : জার্মানির প্রত্যাহারের পর ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্প ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম’ (FCAS)-এ যোগ দিতে চলেছে ভারত। যদিও বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে, তবে এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

জানা গিয়েছে, ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি হয়ে যেতে পারে, যা ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে। ২০১৭ সালে ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে FCAS প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল, পরে স্পেনও তাতে যোগ দেয়। কিন্তু ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং জার্মানির এয়ারবাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে সম্প্রতি জার্মানি এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ভারতের মতো একটি শক্তিশালী অংশীদার খুঁজছিল। FCAS শুধুমাত্র একটি যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প নয়, এর মূল লক্ষ্য হল এমন একটি ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করা যেখানে ষষ্ঠ প্রজন্মের চালকহীন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন একসঙ্গে কাজ করবে। এর ফলে সামরিক অভিযান আরও সুনিপুণভাবে এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত জুন মাসে ফ্রান্সের নিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে প্রতিরক্ষা, যৌথ উন্নয়ন ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠক ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে, সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে, যা দেশের সামরিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।