কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, টেনে আনল গণহত্যার ইতিহাস

রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও আফগানিস্তানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইসলামাবাদের দ্বিচারিতা ফাঁস করল নয়াদিল্লি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ মে ২০২৬ঃ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে বার্ষিক বিতর্কের সময় পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তীব্র কূটনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, যাদের হাতে গণহত্যার রক্ত লেগে, তাদের মুখে কাশ্মীরের মতো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত হাস্যকর। নয়াদিল্লি ইসলামাবাদকে ‘গণহত্যার কলঙ্কিত ইতিহাস’ বহনকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে।

১৯৭১ সালের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর প্রসঙ্গ টেনে ভারত স্পষ্ট জানায়, পাকিস্তানের নিজেদের দেশের ইতিহাসে গণহত্যা ও ব্যাপক যৌন নির্যাতনের কলঙ্ক রয়েছে। তাই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। ভারতের তরফে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের প্রতিনিধি আরও বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে সীমান্তের ভিতরে ও বাইরে হিংসার পথ নিয়েছে। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ‘ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল’-এ পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ভারতের দাবি, ওই হামলায় শতাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের আফগানিস্তান মিশন UNAMA-এর তথ্য অনুযায়ী অন্তত ২৬৯ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। ভারত এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘অবিবেচক’ হামলা বলে বর্ণনা করেছে। যদিও পাকিস্তান কাবুল হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছিল। তবে ভারতের তরফে পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতাকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংঘাত ফের তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে ভারত তার অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।