চিনের আগ্রাসী নামবদলের পাল্টা জবাব ভারতের, তিব্বতের ২৭টি এলাকার নতুন নামকরণ নয়াদিল্লির

চিনের আগ্রাসী নামবদলের কৌশলের পাল্টা জবাব দিল ভারত। এলএসি সংলগ্ন তিব্বতের ২৭টি এলাকার নতুন নামকরণ করল নয়াদিল্লি। ঐতিহাসিক ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ আগষ্ট ২০২৬ : অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে বেজিংয়ের ধারাবাহিক উস্কানি ও নামবদলের কৌশলের বিরুদ্ধে এবার কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন চিন-অধীকৃত তিব্বতের ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নামবদল করল ভারত। ভারতের জাতীয় মানচিত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ অরুণাচল প্রদেশের যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতেই এই নামগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে বিশদ পরামর্শের পরেই ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ এই মানচিত্র প্রকাশ করেছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এলএসি সংলগ্ন ওই ২৭টি ভৌগোলিক এলাকা ও তার বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের প্রশাসনিক মানচিত্রে এগুলিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মূল উদ্দেশ্য হল এলাকাগুলির ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক স্বীকৃতি সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমান্ত সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা। যে ২৭টি নাম যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলি ভারতের সামরিক মানচিত্রে এবং ১৯৬২ সালের আগের পুরোনো মানচিত্রে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ছিল। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুবানসিরি জেলার তিনটি সীমান্ত গ্রাম— লংজু, মাজা ও বিসা। রয়েছে ম্যাকমোহন লাইন বরাবর অবস্থিত তিনটি প্রধান গিরিপথ জোলা, রিজালা এবং পুকুর লা।

এছাড়াও তাওয়াং জেলার সীমান্তে অবস্থিত ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের ঐতিহাসিক রণক্ষেত্র থাগ লা গিরিপথটিও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক এলাকাকে নিজেদের দাবি করে বিভ্রান্তিকর মানচিত্র প্রকাশ করে আসছিল চিন। সেই আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতেই এবার চিন-অধ্যুষিত তিব্বতের ভূখণ্ডে নিজস্ব নামকরণের ছাঁচ ফিরিয়ে আনল ভারত।